প্রতিদিন প্যান্ট পরেই দোকানে আসতেন, সেদিন কেন যে লুঙ্গি পরলেন—কেউ জানে না। আর সেই এক দিনের ছোট্ট পরিবর্তনই হয়ে গেল জীবনের শেষ সিদ্ধান্ত!
ফেনীর ফুলগাজীর উত্তর দৌলতপুরের নুরুল ইসলাম ছুট্টু প্রতিদিনের মতোই নিজের কাজ নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। বছরের পর বছর একই রুটিন—মোটরসাইকেলে দোকানে আসা, মিলে চাল-মশলা ভাঙানো, মানুষের সঙ্গে কথা বলা, তারপর দিনের শেষে বাড়ি ফেরা।
কিন্তু সোমবারের দিনটা ছিল অন্যরকম।
সেদিন তিনি প্যান্টের বদলে লুঙ্গি পরে মুক্তাবাজারের নিজের মিলে কাজ করছিলেন। দুপুরে মশলা গুঁড়ো করার সময় হঠাৎ পরনের লুঙ্গি চলন্ত মেশিনের বেল্টে জড়িয়ে যায়। সবকিছু ঘটে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে। আশপাশের মানুষ কিছু বুঝে ওঠার আগেই ঘটে যায় ম %র্মা %ন্তি ক দু %র্ঘ %টনা।
একটা সাধারণ পোশাক বদল—এত বড় পরিণতি ডেকে আনতে পারে, কে ভেবেছিল?
যে মানুষটি বছরের পর বছর একই জায়গায় একই কাজ করেছেন, সেদিনও হয়তো মনে করেছিলেন আর পাঁচটা দিনের মতোই দিন কাটবে। হয়তো ভাবছিলেন কাজ শেষ করে বাড়ি ফিরবেন, পরিবারের সঙ্গে বসবেন, পরদিন আবার দোকানে আসবেন। কিন্তু জীবন যে কতটা অনিশ্চিত, এই একটি ঘটনাই যেন তা
নি র্মম ভাবে মনে করিয়ে দিল।
সবচেয়ে ক %ষ্টে র বিষয়—এমন মৃ %ত্যু কেউ আগে থেকে আঁচ করতে পারে না। মানুষ ভবিষ্যৎ নিয়ে কত পরিকল্পনা করে, কত হিসাব করে, কত স্বপ্ন সাজায়। অথচ কখন কোন মুহূর্ত জীবনকে থামিয়ে দেবে, কেউ জানে না।
স্থানীয়দের কাছে নুরুল ইসলাম ছুট্টু ছিলেন পরিচিত ও সহজ-সরল মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে চাল-মশলা ভাঙানোর কাজ করে সংসার চালিয়েছেন। পরিচিতদের সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলতেন, নিজের কাজ নিয়েই ব্যস্ত থাকতেন। সেই মানুষটির বিদায় হলো এমন আকস্মিকভাবে, যা মেনে নেওয়া কঠিন।
প্রতিদিন প্যান্ট পরে নিরাপদে কাজ করেছেন, আর যেদিন লুঙ্গি পরলেন—সেদিনই সব শেষ।
এ যেন জীবনের অদ্ভুত এক হিসাব।
এই ঘটনা আমাদের আরেকবার মনে করিয়ে দেয়—চলন্ত যন্ত্রের কাছে ঢিলেঢালা পোশাক কতটা বিপ %জ্জ %নক হতে পারে। এক মুহূর্তের অসাবধানতাই ডেকে আনতে পারে অপূরণীয় ক্ষ তি।
আল্লাহ নুরুল ইসলাম ছুট্টুকে ক্ষমা করুন, তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন এবং তার পরিবারকে এই শো/ক স/হ্য করার শক্তি দিন। আমিন।
Check Also
আপনিও পেতে পারেন ৯ কোটি টাকা থাকে যদি পুরনো ১ টাকার কয়েন
এখনকার দিনে আত্মনিভর হতে কেই না চায়। নিজে ব্যাবসা করে নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে সকলেরই …
Prothom Bd IN Biggest News Site