Breaking News

শেখহাসিনার যে গোপন মিশনে গোয়েন্দাতে তোলপাড়

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও একাধিক রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারি এড়িয়ে ভারতের মাটি থেকে সরাসরি ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ) আসনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কয়েক ঘণ্টাব্যাপী এক গোপন ভার্চুয়াল জুম বৈঠক করেছেন গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক ফ্যাসিস্ট প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা।

বৈঠকে তিনি দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকা কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে সাবেক এমপি প্রয়াত আব্দুল মান্নানের স্ত্রী শামীম আরা মান্নান এবং সাধারণ সম্পাদক পদে আইয়ূব হোসেনের নাম ঘোষণা করেন। গত বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টা থেকে শুরু হওয়া এই অনলাইন বৈঠকে কালীগঞ্জ উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের তিনশতাধিক নেতাকর্মী পর্যায়ক্রমে অংশ নেন। এভাবে কালীগঞ্জের তৃণমূলের প্রায় দুই হাজার নেতাকর্মীর সঙ্গে শেখ হাসিনা যুক্ত হন বলে আ.লীগ নেতারা নিশ্চিত করেন। তবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও রাজনৈতিকভাবে উত্তপ্ত এই জুম বৈঠকের কোনো তথ্যই ছিল না স্থানীয় কিংবা জেলা গোয়েন্দা দফতরের কাছে।

দীর্ঘ সময় ধরে চলে আসা এই গোপন প্ল্যাটফর্মে রাষ্ট্র বা সরকারবিরোধী কী কী কৌশলগত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে, সে বিষয়ে গোয়েন্দাদের আগাম কোনো তথ্য না থাকা বা ট্র্যাকিংয়ে ব্যর্থ হওয়া নিয়ে প্রশাসন ও সুশীল সমাজে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বৈঠকে অংশ নেওয়া কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের এক প্রভাবশালী নেতা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সভানেত্রী শেখ হাসিনা তৃণমূল পর্যায়ে দলকে পুনর্গঠিত ও সুসংগঠিত করার কঠোর বার্তা দিয়েছেন। সভার শুরুতে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আনারের মতো আমরা আর কাউকে হারাতে চাই না। দলকে সুসংগঠিত করে আঘাত আসলে পাল্টা আঘাত দিতে হবে’।

নির্দেশনায় তিনি বলেন, গ্রামে গ্রামে সাধারণ মানুষের দ্বারে পৌঁছে বর্তমান সরকারের নানা সংকট তুলে ধরতে হবে। বিশেষ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, বিদ্যুৎ-গ্যাস বিপর্যয় ও চরম সার সংকটের বিষয়টি ব্যাপকভাবে প্রচারের নির্দেশ দেন তিনি। বৈঠকে প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে নির্দিষ্ট তিনজন করে প্রতিনিধি ভার্চুয়ালি বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পান।

দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই হাই-প্রোফাইল বৈঠকের খবরটি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও সাবেক পৌর কাউন্সিলর অ্যাডভোকেট রিগান, আ.লীগ সমর্থক মোস্তাক আহম্মেদ লাভলু এবং আলাল হোসেনসহ স্থানীয় বেশ কয়েকজন আওয়ামী নেতা তাঁদের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এসংক্রান্ত পোস্ট শেয়ার করলে বিষয়টি জনসমক্ষে আসে।

ফেসবুকে বার্তা ছড়িয়ে পড়ার পর জেলাজুড়ে হুলস্থুল পড়ে গেলেও পুরো বিষয়ে অন্ধকারে ছিল জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা। রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও নজরদারির এমন চরম শিথিলতা এবং গোয়েন্দা ব্যর্থতা নিয়ে নানামুখী প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার (এসপি) মিঞা মোহাম্মদ আশিস বিন হাছানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি সম্পর্কে পুরোপুরি অজ্ঞতা প্রকাশ করে জানান, এ ধরনের কোনো রাজনৈতিক জুম বৈঠক কিংবা গোপন সমাবেশের তথ্য তাঁদের জানা নেই। তবে বৃহস্পতিবার রাত থেকে বিভিন্ন ফেসবুকে এমন খবর ছড়িয়ে পড়ে। এ সম্পর্কে কিছু তথ্য উপাত্ত তাদের হাতে এসেছে, সেগুলোর সত্যতা যাচাই বাছাই করা হচ্ছে।
বিষয়টি নিয়ে ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা বলেন, তারাও বিষয়টি নিয়ে খোঁজ শুরু করেছেন। এ জন্য তিনি কালীগঞ্জ বিএনপি নেতাদের সঙ্গে কথাও বলেছেন। নিষিদ্ধ দলের এ ধরণের গোপন কার্যক্রম কোন ভাবেই চলতে দেওয়া হবে না।

About admin

Check Also

টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ সরকারি চাকরিজীবীদের, যেভাবে মিলবে….see more

আগস্ট মাসে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য টানা চার দিন করে দুই দফায় মোট আট দিন ছুটির …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Recent Comments

No comments to show.